কাওসার হোসেন মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল। সকাল সোয়া ৯ টার দিকে জেলা সদরের শান্তি নগর এলাকায় এ অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর গুইমারা আর্টিলারি ব্রিগেডের সিন্দুছড়ি জোনের সদস্যরা।অভিযান চলাকালে তিন রাউন্ড গুলি বর্ষন হয়। এ সময় অভিযুক্ত এক অস্ত্রধারী যুবক একটি ভাড়া বাড়ির বিল্ডিংয়ের ছাঁদ থেকে লাফ দেয়। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার নাম কংসাই মারমা৷প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, সকালে শান্তিনগর এলাকায় সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি দেখতে পান তারা। এর কিছুক্ষণ পর তিন রাউন্ড গুলির রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান। ধারণা করা হচ্ছে ঐ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অবস্থান করছেন এমন খবরে সেনাবাহিনী আসলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে কংসাই মারমা। পরে পালানোর জন্যে লাফ দিয়ে পাশের বাড়িতে পড়ে গেলে সেনা সদস্যরা ঐ যুবককে ধরে ফেলে। তার কাছ থেকে একটি ৯ মি. মি. পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের লোকজন তাদের বাড়িতে ঢুকে নিরাপদে চলে যান।একটি সুত্র বলছে, কংসাই মারমা মগ লিবারেশন পার্টির প্রধান। তার বাড়ি সিন্দুকছড়িতে। বছর দেড়েক আগে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শান্তিনগর এলাকায় সুজিত দে’র বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকছেন তিনি।বাড়ির মালিক সুজিত দে জানান, দেড় বছর আগে তার দুইতলা বাড়ির নিচের তলা ভাড়া নেন কংসাই মারমা। ভাড়া বাড়িতে কংসাই মারমার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে থাকতেন। মাঝেমধ্যে কংসাই মারমা চট্টগ্রাম থেকে এসে পরিবারের সাথে থাকতেন। তার মেয়ে জেলা শহরের ইংলিশ ভয়েস স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করছিলেন। এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি বাড়ির মালিক সুজিত দে।নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রে জানায় শান্তিনগর এলাকার ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন একটি বাসায় সিন্দুকছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন মো. শাইয়েন কাদির এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি দুইতলার বাড়ির ছাঁদ থেকে লাফিয়ে বাউন্ডারি ওয়ালা পাশের বাড়িতে পড়ে গেলে সেনাবাহিনী আহত অবস্থায় তাকে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে সিন্দুকছড়ি সেনা জোন বিকেলে একটি ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে। ব্রিফিংয়ে অভিযান নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে৷খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, কংচাই মারমার শরীরে কোন ধরণের আঘাত বা নির্যাতন চিহ্ন নেই। মৃতদেহের সুরতাহল ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে পালানোর জন্যে লাফ দিতে গিয়ে হার্ট এটাকে মারা যেতে পারেন তিনি। এ বিষয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।এর আগে ভোর ৬ টার দিকে সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক মানিকছড়ি উপজেলার গাড়িটানা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ইসমাইল হোসেন নামে মগ লিবারেশন পার্টির একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে দুইটি লোকাল এলজি এবং ০৫ রাউন্ড কার্তুজসহ গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে মগ লিবারেশন পার্টি (এমএলপি)’র শীর্ষ সন্ত্রাসী কংচাই মারমাকে আটক করার জন্য খাগড়াছড়ি শহর এলাকার শান্তিনগরে অভিযান পরিচালনা করে। টার্গেট এলাকায় গমন করে অভিযান দলটি কর্ডন এন্ড সার্চ অপারেশন শুরু করার সাথে সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কংচাই মারমা একটি ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের ছাদ থেকেনিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ১ রাউন্ড ফায়ার করে। আত্মরক্ষার নিমিত্তে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যথাযথ আড় নিয়ে পাল্টা ফায়ার করে পরবর্তীতে কংচাই মারমা পালানোর কোন পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাদ থেকে লাফ দেয় কংচাই মারমা। মগ লিবারেশন পার্টি (এমএলপি) এর চেয়ারম্যান কংচাই মারমার সহযোগী ছিলেন আটক ইসমাইল।কংচাই মারমা খাগড়াছড়ি এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মানিকছড়ি উপজেলার ময়ূরখিল এলাকায় মোবাইল টাওয়ার মেরামতকারী একজন টেকনিশিয়ানসহ দুইজন অপহৃত হন। ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার জন্যে কংচাই মারমার নেতৃত্বে সশস্ত্র সদস্যরা ঐ দুই জনকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা