
পুরোদমে উৎপাদনে ফিরেছিল যমুনা সার কারখানা। কিন্তু তীব্র গ্যাসসংকটে মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেল এই কারখানা।
ফলে থেমে গেছে ইউরিয়া সারের উৎপাদনও। গতকাল রবিবার ভোর ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়। গতকাল দুপুরে উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফজলুল হক জানান, কারখানার উৎপাদন চালু রাখতে গ্যাসের চাপ ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় রবিবার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের উৎপাদন শুরু করা হবে।
যমুনা সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, এর আগে গ্যাসসংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল।
দীর্ঘ আট মাস পর গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস সরবরাহ ফের শুরু করলে কারখানার স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় দীর্ঘদিন সার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার রাতে ফের উৎপাদন শুরু হয়।
কিন্তু এর দুই দিনের মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে গত ২৩ অক্টোবর সকাল থেকে সার উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল।
সচল হওয়ার দুই দিনের মাথায় ২৫ অক্টোবর ভোরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড হঠাৎ করেই কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে কারখানায় পুরোদমে সার উৎপাদন চলছিল। কিন্তু রবিবার ভোর থেকে তিতাস গ্যাস কম্পানি হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যামোনিয়াসহ ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে গ্যাস সংযোগ পেলে যেকোনো সময় আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন কারখানাটির উৎপাদিত সার এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা