
মাসুদ রানা,বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ছাগলের গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলকে লাঠি দিয়ে আঘাত এবং পরে মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরদিন পূর্ব বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে অতর্কিত হামলায় মো. হারুনুর রশিদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর শহীদ এম. মনসুর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগকারী হারুনুর রশিদ বেলকুচি উপজেলার দেলুয়া দক্ষিণ-আজামপাড়া গ্রামের মৃত নওশের আলী প্রামাণিকের ছেলে। তার অভিযোগ, ২৭সেপ্টেম্বর অনমানিক সকাল ১০টায় তার একটি ছাগল রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের পাতা খাচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্ত রানা (৬৭) ছাগলটিকে বাটাম দিয়ে আঘাত করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে রানার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
হারুনুর রশিদের অভিযোগ, এর পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ এলাকার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় রানার স্ত্রী আসমা (৫০), ছেলে আবির (১৮), মেয়ে আতিকা (২১) ও মেয়ের জামাই জাফর (৩৫) লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হারুনুর রশিদকে (২৮সেপ্টেম্বর) বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকরা তার নাকের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং মাথায় রক্তক্ষরণের জটিলতা রয়েছে বলে জানান। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ সদর শহীদ এম. মনসুর আলী হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর শহীদ এম. মুনসুর আলী হাসপাতালের দায়িত্ব রত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত হারুনুর রশিদের নাকের একটি অপারেশনের জন্য রেফার্ড করেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল।
হারুনুর রশিদের পরিবারের দাবি, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ও কর্মহীন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই। এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে বলে তারা জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে গাছের পাতা ছাগলটি খেয়েছিল, সেটি অভিযুক্তদের মালিকানাধীন না হলে ছাগলটিকে কেন আঘাত করা হলো এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন কেন একটি পরিবারের সদস্যরা মিলে ছাগলের মালিকের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা