
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
যশোরের ঝিকরগাছায় অপ্রদর্শিত আয়ের কালো টাকা সাদা করতে ব্যয়বহুল সুপার মার্কেট,বহুতল ভবন ও শপিংমল নির্মাণ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঝিকরগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে দেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও গ্রুপ অব কোম্পানিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি ক্রয় ও ব্যয়বহুল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ক্রেতা পক্ষ। কয়েক হাজার স্কয়ার বর্গফিটের সুপ্রশস্ত মাল্টি কমপ্লেক্স সুপার মার্কেটটিতে স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি ও লিফটসহ আধুনিক সব ব্যবস্থা রয়েছে।
দৃষ্টিনন্দন এই সুপার মার্কেটের মালিক পক্ষের বৈধ আয়ের উৎস নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা ও কৌতুহল!
এদিকে অতিসম্প্রতি শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় একটি সুপার মার্কেট অতি সংগোপনে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি ও তৎবিপরীতমুখী ০৭শতক জমির প্রতি শতকের মূল্য হাকানো হয়েছে এককোটি টাকা! একজন ক্রেতাও নাকি আগ্রহ দেখিয়েছেন। কে সে? প্রশ্ন উঠেছে,তার এই অর্থের উৎস কি? সরকারকে দেয়া তার বার্ষিক আয় করের পরিমাণ কত?
এদিকে একজন বাবা ছিলেন স্বল্প পুঁজির ছোটখাটো ভুসি মালের ব্যবসায়ী। সেই ব্যবসা ছেড়ে মেডিসিনের (ফার্মেসি) দোকান দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স'র প্রধান গেটের ঠিক সামনে।মধ্যবিত্ত পরিবার।ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন।মাত্র কয়েক বছর আগে ছেলে পেয়েছেন পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে চাকরি। ৫আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে ওএসডি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে,গুণধর ছেলের চাকরির সুবাদে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তার গর্বিত বাবা! অতিসম্প্রতি ঝিকরগাছা সরকারি হাসপাতালের পাশে তিনি ছেলের সহযোগিতায় বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার তৈরি করার জন্য।কাজ এগিয়ে নিতে জোর প্রস্তুতিও চলছে বলে বলে খবর পাওয়া গেছে।
একজন তরুণ জুয়েলারি ব্যবসায়ীর ভাগ্য পরিবর্তন ঘিরে জল্পনার যেন শেষ নেই! সেদিনের মামার দোকানের হোটেল কর্মচারী সেই ভাগ্নে এখন অঢেল অর্থের মালিক।
সোনা পট্টির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আলোচিত জুয়েলারির দোকানের মালিক তিনি। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে একটি সুপার মার্কেট,সুরম্য দ্বিতল আবাসিক ভবনসহ অনেক বিত্তবৈভবের মালিক! এ যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ তার হাতের মুঠোয়!
এদিকে করফাঁকি রোদ ও অপপ্রদর্শিত আয়ের প্রকৃত উৎস খুঁজতে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে এবার অনুসন্ধানে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুর্নীতিরোধ ও রাজস্ব আদায়ে করজালের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি এই সংস্থা দুটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে,উপজেলার পৌর সদরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজারগুলোতে গড়ে উঠেছে নামিদামি সুপারমার্কেট,শপিং কমপ্লেক্স,ব্যয়বহুল আবাসিক ও বাণিজ্যিক বহুতল ভবন ইত্যাদি।
সূত্রগুলোর মতে,ঝিকরগাছা উপজেলা ব্যাপি নব্য কোটিপতির তালিকায় নাম আসতে পারে শতাধিক।
যাদের বেশিরভাগ করের আওতা মুক্ত! এদের অনেকের ভাগ্য বদলেছে অবিশ্বাস্য রকমের! এই তালিকায় রয়েছে,আমদানি-রপ্তানি কারক(এক্সপোর্ট- ইমপোর্ট এজেন্সি) জুয়েলারি ব্যবসায়ী,বস্ত্র ব্যবসায়ী,রড সিমেন্ট,উদ্যোক্তা মৎস্যজীবী,পোল্ট্রি ও ফিস ফিড ব্যবসায়ী,ডাল চিনি ময়দা সয়াবিন তেল,পশুখাদ্য আমদানিকারক,অটো রাইস মিল,শিল্প কারখানার মালিকসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত ব্যক্তিরা।
যাদের মধ্যে অনেকের ভাগ্য পরিবর্তনের গল্পকে রূপকথার কল্প কাহিনীকেও হারমানায়!
এদের কেউবা দাবী করছেন প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স ও ব্যবসা তাদের বৈধ আয়ের উৎস।
তবে তাদের এই দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শপিং কমপ্লেক্স বা সুপারমার্কেট। ব্যয়বহুল কয়েকটি নান্দনিক সৌন্দর্যের বহুতল ভবন অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে চলার পথে চোখে পড়ে বিদেশি প্যাটানের নান্দনিক সৌন্দর্যের বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের পাশাপাশি সুপারমার্কেট। যা সরকারের আয়কর বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেকটাই অগোচরে রয়ে গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)'র অবৈধ অর্থের উৎসের অনুসন্ধান ও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে অনেকে।
উপজেলার চাপাতলা-বামনালি গ্রামের ভেতর গড়ে উঠেছে একটি শিল্প কারখানা। এখানে দীর্ঘদিন ধরে মোটর বিভিন্ন প্রকারের পার্টস তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
নির্বাসখোলা ইউনিয়নের দিঘড়ি গ্রামের কতিপয় ব্যক্তির ভাগ্য বদলেছে অস্বাভাবিক পর্যায়ে। এক সময় যাদের দুবেলা দু'মুঠো খাবার জুটত না তাদের বিপুল অর্থের বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্সের আড়ালে ট্যাক্স ফাঁকির স্বর্ণ পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের এলাকাখ্যাত উপজেলার বাঁকড়া বাজার। এখানে সব রকমের বাণিজ্যিক সুবিধাসহ ব্যাংক বীমা আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনজিও)'র ছড়াছড়ি। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা শহরের মতো এখানে সব পণ্যের সমাহার। বহুতল সুরম্য বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে কয়েক ডজন।
ছুটিপুর,কায়েমকোলা,নাভারন,গদখালি বাজারে প্রায় একই চিত্র।
এখানে জমির মূল্য আকাশচুম্বী! তাতে কী! ক্রেতার টাকা আছে। বিক্রেতা নেই! তাইতো হু হু করে বাড়ছে জমির দাম!
সূত্রের দাবি,সঠিকভাবে করদাতাদের করজালের আওতা বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তার প্রয়োজন পড়তো না। বরং ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে উন্নয়ন সহায়তাসহ উদ্বৃত্ত আয়কর সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হতো। এমনটাই দাবি করলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের অনেকে। তাদের ভাষ্য সরকার গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে বার্ষিক গড় এককোটি টাকার কমবেশি উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়। হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসহ সেবামূলক ই-সেবা কেন্দ্র,জন্মমৃত্যু সনদ ইত্যাদি খাতের আয় থেকে সম্মানী ভাতার আংশিক প্রদানসহ আনুষঙ্গিক খরচ নির্বাহ করা হয়। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় নাম সর্বস্ব। অথচ বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন সুপার মার্কেট বিপুল সংখ্যক। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে কঠোর নীতিমালা না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রাপ্য অর্থ অনাদায় থেকে যায় বছরের পর বছর।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা