ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছায় ‘বেনাপোল কমিউটার (৫৩ বেতনা) ট্রেন’ সার্ভিস সরকারি থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। যাত্রী সাধারণের মধ্যে বেসরকারি এই টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর বেনাপোল-খুলনা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তখন ঝিকরগাছা স্টেশনের প্রথম মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মান্নান। ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি তত্ত্বাবধানে চলার পর একবার বেসরকারি করা হলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকার নিয়ন্ত্রণে নেয়। দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ কে টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেনের টিকিট ঝিকরগাছা কাউন্টার থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪টি বিক্রি হতো, যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টিতে। অন্যদিকে, বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনের যাত্রীসংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগে যেখানে ৫০-৬০টি টিকিট বিক্রি হতো, আজ তা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। ভাড়া পূর্বের নির্ধারিত মূল্যেই বহাল রয়েছে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনে স্টেশনের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর প্রতিনিধিদের কড়া তদারকি লক্ষ্য করা গেছে। টিকিট ছাড়া যাত্রী চলাচল রোধে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। রেলওয়ের কর্মকর্তারাও স্টেশনে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, “রেলওয়ের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী আজ থেকে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার কাজগুলো নিয়মিত তদারকি করবো।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা