মোঃ আমজাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধিঃকুমিল্লা জেলা (উত্তর)
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুরে কৃষকের ৬০ শতাংশ জমির লাল শাক ও ডাটা শাক কীটনাশক দিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক শহীদ মিয়ার জমির লাল ও ডাটা শাক পাইকারি ক্রয় করেন একই গ্রামের ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া। বাজারমূল্যে প্রায় ৭০ হাজার টাকার এই শাকসবজির ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু একই গ্রামের আরেক ব্যবসায়ী সোহেলও জমিটি কেনার জন্য আগ্রহী ছিলেন। তার আগেই ফারুক শাকসবজি কিনে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোহেল।
এর পরদিন স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে কৃষক শহীদ মিয়ার সাথে সোহেলের কথা কাটাকাটি হয়। সেখানেই তিনি হুমকি দেন, “সবজি কোথায় বিক্রি করবে, সেটা আমি ঠিক করে দেব।” এ ঘটনার পর থেকেই কৃষক ও ক্রেতা ফারুক আশঙ্কায় ছিলেন।
তাদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই জমিতে আগাছা নিধনের কীটনাশক ছিটিয়ে দেন সোহেল। ভোররাত চারটার দিকে ফারুক মিয়া অভিযুক্ত সোহেলকে ফসলি মাঠ থেকে বের হয়ে বাড়ি যেতে দেখেছেন বলেও জানান। পরদিন সকালে দেখা যায় জমির সমস্ত শাক-সবজি পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন,
“আমার কয়েক মাসের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। জমির সব শাক নষ্ট হয়ে গেছে, আমি পথে বসে গেলাম।”
ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন,
“আমি বাজার থেকে পাইকারি বিক্রির জন্য এই শাক কিনেছিলাম। কিন্তু এখন সব নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমারও বড় ধরনের ক্ষতি হলো।”
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্রেতা ফারুক দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত সোহেল ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা বলেন, “একজন কৃষকের ঘাম-ঝরানো পরিশ্রমের ফল এভাবে নষ্ট করা সত্যিই নেক্কারজনক। এর বিচার হওয়া উচিত।”
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা