মোঃ আমজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা (উত্তর) ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট—দেশজুড়ে বয়ে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝড়। রাজধানী থেকে উপজেলা, গ্রাম থেকে শহর—সবখানে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে লাখো কণ্ঠ।
এই সময় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় আন্দোলন পৌঁছায় ভয়াবহ রূপে।
গুলির শব্দ, আর্তনাদ আর রক্তমাখা রাজপথ হয়ে ওঠে বিদ্রোহের সাক্ষী।
এই আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়ে শহীদ হন দেবিদ্বারের ১২ জন সাহসী সন্তান।
শহীদের তালিকা ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
প্রথমে শহীদ হন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশা রুবেল, স্কুলছাত্র আমিনুল ইসলাম সাব্বির, ও আব্দুস সামাদ।
পরবর্তীতে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে শহীদ হন আরও ৯ জন—যাঁদের অনেকেই ছিলেন দেবিদ্বারের সন্তান।
গ্যাজেট তালিকায় ইতোমধ্যে ১১ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আরও একজনের নাম তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াধীন।
শহীদদের রক্তাক্ত গল্প:
বাদশা রুবেল (৪৩)
৪ আগস্ট বানিয়াপাড়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন। এরপরও নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পেশায় বাসচালক ছিলেন। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আমিনুল ইসলাম সাব্বির (১৮)
নবম শ্রেণির ছাত্র, পাশাপাশি ভ্যানচালকের কাজ করে পরিবার চালাতেন।
৫ আগস্ট থানার সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হন। ৪০ দিনের লড়াই শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
আব্দুস সামাদ
একই ঘটনার গুলিতে আহত হন। সাত মাস মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকায় শহীদ হওয়া দেবিদ্বারের অন্যান্য সন্তানগণ:
১ ফয়সাল সরকার ২৪ শিক্ষার্থী কাচিসাইর, এলাহাবাদ ১৯ জুলাই, আব্দুল্লাহপুর
২ সাগর মিয়া ১৯ সবজি বিক্রেতা বড়শালঘর ১৯ জুলাই, মিরপুর-১০
৩ হোসাইন মিয়া ১০ পপকর্ন বিক্রেতা বেতুয়া, রাজামেহার ২০ জুলাই, চিটাগাং রোড
৪ কাদির হোসেন সোহাগ ২২ কুরিয়ার কর্মী সূর্যপুর, ভানী ২০ জুলাই, গোপীবাগ
৫ জহিরুল ইসলাম রাসেল - শিক্ষার্থী মহেশপুর, ইউছুফপুর ৪ আগস্ট, গুলিস্তান
৬ রবিন মিয়া ৩৫ ব্যবসায়ী ওয়াহেদপুর, সুবিল ৪ আগস্ট, যাত্রাবাড়ি
৭ রায়হান রাব্বি - শিক্ষার্থী খয়রাবাদ, জাফরগঞ্জ ৫ আগস্ট, খিলগাঁও
৮ সাইফুল ইসলাম তন্ময় , এলাহাবাদ তথ্য অপ্রকাশিত
৯ নাজমুল হাসান - হাসপাতাল কর্মী রসুলপুর ১৯ জুলাই, বাড্ডা
আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:আবুবকর – স্কুলছাত্র, গুলিতে আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।
মোঃ সাহাদাৎ হোসেন সোহাগ (বাঙ্গুরী)– ঢাকায় আন্দোলনে ৮টি গুলিবিদ্ধ হন
মোঃ জামাল – মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরেছেন।
এই ১২ জন শহীদের আত্মত্যাগ আজ শুধু দেবিদ্বারের গর্ব নয়—এটা দেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়।
তাঁদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ আজ প্রশ্ন তোলে—
“বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কি অপরাধ?”
তাঁরা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন—প্রতিরোধের প্রতীক হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা