রিয়াদ আহাম্মেদ, শেরপুর প্রতিনিধি:শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্ধারিত মসজিদে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দোয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শিপন ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি উল্টা সাংবাদিকদের তার বিরুদ্ধেই মামলা করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি বলেন, "কেন টাকা কম দেয়া হলো সেটা আগে বুঝতে হবে। ব্যান্ডিং, ট্যাক্স-ভ্যাট যায় ১৯.৫ শতাংশ। অফিসে ঘুষ দিতে হয় মিনিমাম ৭ থেকে ১০ শতাংশ। ৩০ শতাংশ তো গেলইগা। তোমাদের যেখানে ইচ্ছা বিচার দেও, যা মন চায় করো। থানায় মামলা কর, নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে যাও।"
এদিকে মসজিদের প্রকল্পে সরকারি খরচ ও ঠিকাদারের লাভের অংশ বাদ দেয়ার পরেও টাকা কম দেয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সংশ্লিষ্ট মসজিদের মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট সহ স্থাপনা নির্মাণে ঠিকাদারগণ যে অনিয়ম লুটপাট করে তার প্রয়োগ যদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও হয় এটা বিস্ময়ের। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্পর্শকাতর স্থান ও আবেগের জায়গা। সবাই এসব প্রতিষ্ঠানে দান করে। কিন্তু মসজিদ-মাদ্রাসার টাকাও ঠিকাদারদের মেরে খাওয়া লাগে ? এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। এছাড়াও রডের পরিবর্তে নগদ টাকা প্রদান কেন দেয়া হলো এর সদুত্তর দিতে পারেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলার এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় এডিবির অর্থায়নে শ্রীবরদী উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ ৪টি ইউনিয়নের মোট ৭টি মসজিদ ও ১টি ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী মসজিদ গুলোর উন্নয়নকাজে রড দেয়ার কথা। কিন্তু তারা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের লোকজন নিয়ে রডের দোকানে গিয়ে ছবি তুলে দায় সারেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রডের পরিবর্তে বাজেটের চেয়ে কম মূল্যে নগদ টাকা প্রদান করেন।
প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে, কুড়িকাহনিয়া মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ১লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৫৫ হাজার, কুড়িকাহনিয়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ২লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ১লাখ ১৩হাজার, কুরুয়া বাজার জামে মসজিদের ১লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৭৫হাজার টাকা, পূর্ব মামদামারী জামে মসজিদে ২লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ১লাখ ১৩ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়াও পশ্চিম মামদামারী জামে মসজিদে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা, শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের পুরান শ্রীবরদী জামে মসজিদে ৩ লাখ টাকা ও কাকিলাকুড়া বলদিয়ার তালুকদার বাড়ী জামে মসজিদে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রায় একই রকম ভাবে অর্থ প্রদান করা হয়।
কুড়িকাহনিয়া দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি বাবর আলী বলেন, "আমাদের ২লাখ টাকা বাজেট ছিলো। তার মধ্যে আমরা ১লাখ ১২ হাজার টাকা পাইছি। এ সময় আমি বলেছিলাম টাকা এত কম কেন ? তারা বলেছে ট্যাক্স-ভ্যাট কেটে নিয়েছে। আপনারা নিলে নেন। আর না নিলে অন্য মসজিদে দিয়ে দিব।"
কুড়িকাহনিয়া মধ্যপাড়া মসজিদের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, "অনুদান ১লাখ টাকা দেওয়ার কথা আছিল। কিন্তু টাকা পাইছি ৫৬হাজর ৫শ।"
কুরুয়া বাজার জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার সৈয়দ আলী বলেন, "বরাদ্দ ১লাখ ৫০হাজার টাকা। কিন্তু দিয়েছে ৭৫হাজার টাকা। প্রথমে দিছিলো ৮৫ হাজার। পরে উল্টা ১০হাজার ফেরত নিয়ে গেছে।"
শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, 'অফিসে টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ঠিকাদার কিভাবে এসব কথা বলে ? তারা তাদের কাজে অনিয়ম করে অফিসের উপর দায় চাপায়।' তিনি আরও বলেন, 'রডের যায়গায় টাকা দেয়াটাই কাজে অনিয়ম। ঠিকাদারকে আমরা এখনো কাজের বিল দেইনি। ঠিকাদার কাজ শেষে বিল নেয় এটাই নিয়ম। আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।'
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, 'ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বার্থেই আমরা মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকি। এসব কাজে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিব। অফিস কোন অনিয়ম করলেও তা দেখা হবে।'
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা