
আজ মঙ্গলবার রাত থেকেই শিল্প খাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সংকটের আগে যে পরিস্থিতি ছিল, সেই জায়গায় আপাতত যাওয়া যাবে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের এফবিসিসিআইর প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন করে সংকট তৈরির আগে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এটিই আজকের এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।’
সরকারের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি সংকটের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছিল। সংকট কাটিয়ে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে কয়েক দিন আগে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা আশাবাদী হয়েছেন, শিল্প খাতে গ্যাসের তীব্র সংকট কেটে যাবে। মঙ্গলবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে কারখানা পর্যায়ে স্বাভাবিক সরবরাহ পেতে হয়তো আরও তিন থেকে চার দিন লেগে যেতে পারে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহের ব্যাপক যে অবনতি হয়েছিল, তা থাকবে না।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, সরকারের পদক্ষেপে তারা খুশি। তবে তা সংকটের স্থায়ী সমাধানের যথেষ্ট বলা যাবে না। গত ২১ জুলাই থেকে তীব্র জ্বালানি সংকট শুরুর আগেও শিল্প কারখানায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল। নিকট মেয়াদেও ঘাটতি থাকবে। তবে এখনকার চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল
বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে।
তিনি জানান, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের দুই, পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন অচল থাকার পর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রথমে তিনটি এবং পরে পাঁচটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিভিন্ন জ্বালানি উৎসের সমন্বয়ে একটি বৈচিত্র্যময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব বৈঠকে উঠে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে এফবিসিসিআই, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি), বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা