
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
"আসছে বছর আবার হবে" — ভক্তদের এমন আকুতি, ঢাকের বিদায়ী সুর, শঙ্খ-উলুধ্বনি আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।
দশমীর সকাল থেকেই উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে ওঠে বিদায়ের করুণ সুর। সকালে দেবীর দশমী বিহিত পূজা, দর্পণ বিসর্জন শেষে শুরু হয় সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর ছুঁয়ে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন — যার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় স্বামী-সন্তানের মঙ্গল ও পরিবারের কল্যাণ কামনা।
দুপুর গড়াতেই কাঁসর-ঘণ্টা, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা ছুটে যান বিসর্জন ঘাটের দিকে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাসিরনগর উপজেলায় মোট ১৪২টি সার্বজনীন ও পারিবারিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা নাসিরনগরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রতিটি মণ্ডপেই ছিল আলোকসজ্জা, প্রতিমার নান্দনিক কারুকার্য ও ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বলভদ্র নদী, লংগন নদী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্ধারিত পুকুর পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে বিসর্জন ঘাটগুলো পরিণত হয় অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায়। ভক্তরা অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানান এবং আগামী বছর আবারও মা দুর্গার আগমনের প্রার্থনা করেন।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, বিজয়া দশমী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের দিন। এই দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যান। এই উৎসব মানুষকে হিংসা, লোভ ও ক্রোধ পরিহার করে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রতিটি ঘাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ এরফান উদ্দিন জানান, "এ বছর নাসিরনগরে ১৪২টি মণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, পূজা কমিটি ও সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি স্থায়ী মন্দির ছাড়া প্রায় সব প্রতিমাই সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।"
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, বিসর্জন উপলক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা