মোঃইমরান হোসেন (রাংগামাটি জেলা প্রতিনিধি )পর্যটন শহর রাঙ্গামাটিতে আগত এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার(২৮ শে জুলাই)দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাঙ্গামাটি শহর রিজার্ভ বাজার হোটেল গোল্ডেন হিল নামক আবাসিক হোটেল থেকে ওই নারীর মরা দেহ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
হোটেলটি রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বরের তিন ভাইয়ের মালিকানাধীন বলে জানা যায়।দীর্ঘদিন ধরে কুতুব উদ্দিন নামক লোকটি চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় হোটেলটি চালাত।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোটেল মালিক ম্যানেজার কাম পরিচালক কুতুবউদ্দিনের এলোমেলো ও সমঞ্জস্যপূর্ণ কথাবার্তা বলাতে, পুলিশের সন্দেহ হওয়াতে তাকে সহ ১২নাম্বার রুমে যৌনকর্মী ও এক খোদ্দার সহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়।আটকৃত খোদ্দার জানায় ৩ হাজার টাকার চুক্তিতে ওই যৌনকর্মীকে হোটেল মালিক সংগ্রহ করে এনে দেয়।
আটককৃত ম্যানেজার কুতুব উদ্দিন বলেন,
গত ২৬শে জুলাই উক্ত নারী রাঙামাটিতে এসে তার হোটেলে উঠেন। কি কারনে তিনি রাঙামাটিতে এসেছেন সেই বিষয়ে রেজিষ্ট্রারে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
ম্যানেজার জানায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে উক্ত নারী হোটেলটির ৫ নাম্বার রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে, তিনি দরজা ভেঙ্গে উক্ত নারীকে গলায় গামছা পেছানো অবস্থায় ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে খাটের উপর নামিয়ে নেন। পরবর্তীতে তিনি হোটেলটির মালিকপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলেও রাত দেড়টার পরে কোতয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। ঘটনার পরপরই কেন পুলিশকে জানাননি। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর কেন জানালেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ম্যানেজার কুতুব উদ্দিন। তার কথাবার্তা আচারণে সংশ্লিষ্ট্য সকলের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, হোটেলটি রেজিষ্ট্রার বইয়ে উক্ত নারীর নাম মিসেস মুন্না সরকার এবং ঠিকানা ঢাকার ধানমন্ডি উল্লেখ থাকলেও চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিতে আসা উক্ত নারীর স্বামী পরিচয়দানকারি আব্দুল কাদের ও কন্যা সাদিয়া আক্তার বৃষ্টি ও মা মমতাজ বেগম সকলেই উক্ত নারীকে তাদের স্বজন এবং তার প্রকৃত নাম মুন্না আক্তার এবং তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন।
মুন্নী আক্তারের পরিবারের সদস্যরা জানায়,তবে এর আগেও তিনি রাঙামাটিতে অন্তত তিনবার এসেছিলেন এবং এই গোল্ডেন হিলেই উঠতেন। কুতুব উদ্দিনের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিলো এটা তারা সকলেই জানত।
এদিকে, পুলিশ সুত্র, স্থানীয় এলাকাবাসি ও দোকানদাররা জানিয়েছে উক্ত গোল্ডেন হিল আবাসিক হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই পতিতা ব্যবসা করে আসছিলো কুতুব উদ্দিন। মার্কেটের ভিতর সিসি ক্যামেরা বেষ্টিত হওয়ায় প্রশাসনের লোকজন উক্ত হোটেলে অভিযানে গেলে আগে থেকেই ক্যামেরায় দেখে পতিতাদেরকে নীচ দিয়ে সরিয়ে দিতো কুতুব উদ্দিন। সর্বশেষ রহস্যময় নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গিয়ে উক্ত হোটেল থেকে পতিতাসহ খদ্দের আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পেলো পুলিশ।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের পাশাপাশি মরদেহের ময়না তদন্তে প্রেরন করব।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা