
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে প্রমাণিত হয় সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে আন্তরিক। পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করেছে সরকার।
সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের ভবন, স্কুল কলেজের ভবনসহ সকল সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের দাবিতে জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু একথা বলেন।
"নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই" শীর্ষক স্লোগানে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ'র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল।
জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খ্যাতিমান গবেষক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপি'র সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, শ্রমিক নেতা ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মোঃ হাবিবুর রহমান, মিশনগ্রীন বাংলাদেশ'র আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্স'র সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন'র মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার'র জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশন'র আসাদুজ্জামান তুহিন।
জনসমাবেশ সঞ্চালনায় ছিলেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ।
জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল মঞ্জু আরো বলেন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে "ধরা" এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সারাদেশে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। সরকার একনেকে সম্প্রতি *রামপালে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন* করায় আমরা আনন্দিত এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি সরকার শীঘ্রই রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিল করবে।
জনসমাবেশের সঞ্চালক মোঃ নূর আলম শেখ বলেন দেশবাসী মহাপ্রাণ সুন্দরবন বিনাশী জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার তা অগ্রাহ্য করেই সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ নির্মাণ করে। আশা করি বর্তমান সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতি হবে এমন কোন প্রকল্প গ্রহণ করবেনা।#
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা