
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্যঝুকি সহ নানা সংকটের আবর্তে পড়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা পৌরবাসী!
মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি পৌরবাসীর পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থায় নেই। নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা!পয়:প্রণালী ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনার অভাবে
মারাত্মক এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ।
এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরুতে পৌরসভার বেশ কিছু সড়ক,কালভার্ট,ড্রেন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে থাকায় ঠিকাদারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, পৌর প্রকৌশলী না থাকায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনার বিল ছাড় দিতে বিলম্ব ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পৌর প্রশাসক ও সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার (ভূমি) শপথ বৈরাগী।
এদিকে পৌর নাগরিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে,পৌরশহর ও শহরতলীর বেশিরভাগ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন,সুপারমার্কেটের শৌচাগারের মলমূত্র মিশ্রিত পানি পৌর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করায় এই স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় কারণ।
এর ফলে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়াই পরিবেশ মারাত্মক ভারাক্রান্ত হচ্ছে।
স্যানিটেশন ও পয়:প্রণালী ব্যবস্থায় কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে মারাত্মক এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত পরিষ্কার না করাই পৌরসভার পয়:নিষ্কাশনের অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ঢাকনা না থাকায় উন্মুক্ত প্রায়।
পৌরসভার নির্মিত গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট গুলোর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চাপ থাকায় অল্প দিনে সেফটি ট্যাংকি ভরাট হয়ে যায়। ফলে বর্জ্য মিশ্রিত অতিরিক্ত পানি সরাসরি ড্রেনে পতিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণির ভবন মালিকরা সেপটিক ট্যাঙ্ক নির্মাণে আর্থিক সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে পৌরসভার নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা (সুইপার)কর্মীদের সহযোগিতায় সেফটি ট্যাংকির সাথে ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে নেন।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার প্রশাসনিক এলাকা সহ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও লেনগুলোতে স্ট্রিট লাইট বা সড়ক বাতি নেই।ফলে কোন কোন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে বাড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি!
এদিকে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের বংশবৃদ্ধি ও উৎপাত বেড়েই চলেছে।অতিসম্প্রতি বেওয়ারিশ কুকুরের একাধিক হিংস্র আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ ও প্রচলিত আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন সম্ভব নয়। ফলে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে।
Leave a Reply