
শাওন আকবার শান্ত,মোংলা প্রতিনিধি:আগামীকাল ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দরে সফরে আসতেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি মোংলা বন্দরের জেটির কার্যক্রম এবং বন্দর জেটির সাথে থাকা ইকোনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন। পাশাপাশি হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট ও বন্দর চ্যানেলের নানা জায়গা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই সফরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করছেন মোংলা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের মধ্য দিয়ে চীনের বিনিয়োগ, মোংলা নদীর উপর সেতু তৈরি, মোংলা-খুলনা সড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণসহ ট্রানজিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে মোংলা বন্দরকে দক্ষিণাঞ্চলের হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। মোংলা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে মোংলা ইপিজেড এবং আশপাশের শিল্প এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কেবল উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে।
মোংলা বন্দরের ড্রেজিং বা নাব্যতা রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত ও কম খরচে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পৌঁছানোর জন্য রেল ও সড়ক যোগাযোগের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
মোংলা শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের জেটিতে প্রতিনিয়ত জাহাজ আসা কমছে। মোংলা বন্দর চ্যানেলের ড্রেজিংয়ের স্থায়ী সমাধান এবং রামপালে বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করে বন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি বাড়াতে হবে। তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন।
মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চট্টগ্রামের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। তাই দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করে, সরকার প্রধানের বারবার দেওয়া “বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ” গড়ার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের এই সফরে বাস্তবায়ন দেখতে চান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা বন্দর সফরে কোন দলীয় কর্মসূচি না থাকলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দের কমতি নেই। পুরো বাগেরহাট জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপির চেয়ারম্যান অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নজর দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর সফরে আসছেন। এই সফর উপলক্ষে তারা আনন্দ মিছিল-র্যালি করেছেন। মোংলা উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি দলীয় প্রধানকে ধন্যবাদ জানান এবং মোংলা বন্দরে সফর করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।#
Leave a Reply