
মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহেল,সাভার প্রতিনিধি:সাভারের আশুলিয়ার গার্মেন্টসকর্মী বিথী আক্তার (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা। এই মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মোঃ মজনু রাজাকে (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিবিআই সূত্রের জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বিথী আক্তারের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান তাঁর মা মেরিনা বেগম। কক্ষে প্রবেশ করে তিনি খাটের পাশে মেঝেতে চিত হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় বিথীর গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক স্বামী মজনু রাজা পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই জুনায়েদ হোসেন। পিবিআই এই হত্যাকাণ্ড রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানাধীন খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মজনু রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মজনু রংপুর জেলার পীরগাছা থানার পাউডাংগা বাজার এলাকার মোঃ রমজান আলীর ছেলে।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তি সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর পূর্বে গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকার অটোগ্যারেজ মেকানিক মজনু রাজার সাথে বিথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা আশুলিয়ার জামগড়ায় বিথীর মা-বাবার বাসার পাশে ভাড়া থাকতেন। স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে মজনু দীর্ঘদিন ধরে তাকে সন্দেহ করে আসছিলেন। গত ১২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরেন মজনু। পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা ও দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মজনু উত্তেজিত হয়ে বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন এবং তোশকে থাকা গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, ছায়া তদন্তের মাধ্যমে সফলভাবে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলাটির চূড়ান্ত তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply