
আজাদ খানঃ’সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষতা ও জ্ঞান দিয়ে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারীতে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ ।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ।
স্থানীয় প্রশাসন ও সুধী সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করে স্থানীয় গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় উপস্থিতি । সচেতন সমাজ গঠন ও সাক্ষরতার প্রসারে গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহীদুল হক টিপু । সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে তাঁর মতো সাংবাদিক নেতাদের সরব উপস্থিতি ও সমর্থন এই আয়োজনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবীব ঠান্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুবীর ঘোষ । এছাড়াও চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা সাক্ষরতার বহুমাত্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন । তারা বলেন, শিক্ষা কেবল মানুষের মৌলিক অধিকারই নয়, এটি একটি উন্নত ও সচেতন সমাজ গঠনের প্রধান হাতিয়ার। শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সাক্ষরতা সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই এর মূল উদ্দেশ্য ।
দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে নিরক্ষরতা দূরীকরণের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার আওতায় আনার ওপর জোর দেন আলোচকরা। তারা একমত পোষণ করেন যে, সাক্ষরতার প্রসার ঘটলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি টানা হয়।
Leave a Reply