
মোঃ আমজাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লাঃ গৌরব, ঐতিহ্য ও স্মৃতির আবেশে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ৬৯ নং বাঙ্গুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উদযাপন করেছে তার শতবর্ষ পূর্তি। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য পূর্ণমিলনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের।
১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি শত বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আজ আর বেঁচে নেই, আবার অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বহন করছেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ ও আমন্ত্রিত বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শত বছরের গৌরবময় পথচলায় ৬৯ নং বাঙ্গুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিদ্যালয়টি আজ এলাকাবাসীর কাছে শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক গৌরবময় প্রতীক।
আলোচনায় বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামীতে একটি ৩ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন, যা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আশার সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও গুণী ব্যক্তিবর্গ। ব্যস্ততার মাঝেও অনেক খ্যাতিমান ও গুণী ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটান। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের এই দীর্ঘ শতবর্ষের যাত্রাপথে যাঁরা নিষ্ঠা, শ্রম ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে অবদান রেখেছেন—সকল শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি শতবর্ষ পূর্তি ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আয়োজক কমিটির সদস্যদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় তাঁদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের হাতে একটি করে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ পরিবেশে শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Leave a Reply