
মোঃ আমজাদ হোসেন, কুমিল্লাঃ কুমিল্লার দেবিদ্বারে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে প্রায় পাঁচ মাস আটকে রেখে ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রিপন (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আটক রিপন দেবীদ্বার পৌর এলাকার দেবীদ্বার গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৩ মে সকাল ৭টায় কিশোরীকে প্রেমিক মামুনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভনে বাড়ির সামনে থেকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে আসামিরা। প্রথমে তাকে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকার উত্তরা আব্দুল্লাহপুরে তাছলিমা আক্তার (৩৭) এর ভাড়া বাসায় রাখা হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট আবারও বুড়িচং উপজেলার রামপাল এলাকার শহিদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কিশোরী ফের ধর্ষণের শিকার হয়।
ওই সময় কিশোরী পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে একদিন অজ্ঞাত একটি নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে পরিবার গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রায় চার মাস পর, ৯ অক্টোবর, কিশোরীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৯(১)/৩০ ধারা অনুযায়ী দেবিদ্বার থানায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০৫)।
মামলার আসামিরা হলেন—
১. রিপন (৩৫) – গ্রেফতার
২. দেবিদ্বার উপজেলার ধলাহাস গ্রামের মৃত আম্বর আলীর ছেলে মো. দুলাল (৪৫)
৩. একই গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে শামীম (৪২)
৪. বুড়িচং উপজেলার মালেকা বেগম (৪৫)
৫. সমেশপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে দুলাল মিয়া (৫৬)
৬. ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকার তাছলিমা আক্তার (৩৭)
দেবিদ্বার থানার ওসি মোঃ ইয়াসিন বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধর্ষণ মামলার আসামি রিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
Leave a Reply