
মোঃ আমজাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুমিল্লাঃকুমিল্লার দেবিদ্বারে শহীদ জুলাইযোদ্ধা ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের খোঁজ নিতে এবং স্থানীয় এনসিপি ও যুবশক্তির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছিলেন চীনের একটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দল।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে চায়না দূতাবাসের রাজনৈতিক পরিচালক মি. জেং জিং–এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রথমে শহীদ রুবেল ও আহত ইয়াছিনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চায়না দূতাবাসের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী রাষ্ট্রদূত লিন ইয়াং, দূতাবাস কর্মকর্তা সুরাইয়া সহ অন্যান্য সদস্যরা।
চীন–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে চীনের এই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় রাজনৈতিক পরিবেশ ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তারা সফর করেন জুলাইযোদ্ধাদের দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’–র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ–র নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার)।
মতবিনিময় ও পরিবার পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন—
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, সদস্য জালাল আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ, এনসিপির বাবুল মাস্টার (জাফরগঞ্জ ইউপি সংগঠক), হোসাইন মোহাম্মদ, রায়হান সিদ্দিক, তাছনিম ছাব্বির আহমেদ, এনসিপি সার্চ কমিটির সদস্যরা, ছাত্রশক্তির কাজী নাসির উদ্দিন, ইয়াছিন আহমেদ, মুক্তাদির সিক্তসহ আরো অনেকে।
প্রতিনিধিদল প্রথমে যান গত বছরের ৪ আগস্ট দেবিদ্বারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া বাসচালক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাদশা রুবেল (৪০)–এর বাড়িতে।
রুবেল ছিলেন পৌরসভার বারেরা গ্রামের মরহুম রফিকুল ইসলামের ছেলে।
মৃত্যুকালে রুবেল রেখে যান—
কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার নৌফা (৬), এবং মৃত্যুর এক মাস ৬ দিন পর জন্ম নেওয়া ছেলে আব্দুল্লাহ আল রায়ান (১৪ মাস)।
চীনা প্রতিনিধিদল রুবেলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারটিকে কিছু খাদ্যসামগ্রী উপহার দেন। তারা দুই সন্তানের লেখাপড়ার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে তারা উপজেলার ভিড়াল্লা গ্রামের আহত জুলাইযোদ্ধা ইয়াছিন–এর বাড়িতে যান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিদায়ের সময় প্রতিনিধিদল আবারও দেবিদ্বারে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply