
আলমগীর কবীর হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার:পাবনায় যুগ-পুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভআবির্ভাব তিথি ও ভাগীরথী পদ্মায় পুণ্যস্নান উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মহোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ও রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ পরমতীর্থ হিমাইতপুরধাম, পাবনায় নানা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মহোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ্রীনিতাই রায় চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দীন স্বপন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক শ্রীবিজন কান্তি সরকার, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা হাবিব।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা জেলা বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সৎসঙ্গের ভক্তবৃন্দ।
সমাপনী দিনের কর্মসূচি শুরু হয় উষালগ্নে মাঙ্গলিকী তারকব্রহ্ম নাম ও সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে। ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় সমবেত প্রার্থনা ও ভক্তিসঙ্গীত। এরপর সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীন নাম-ধ্যান, পুরুষোত্তমের শুভ জন্মলগ্নের স্মৃতিচারণ, দিব্য তনু স্মরণে ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনি, ‘বন্দে পুরুষোত্তম’ ধ্বনি ও উলুধ্বনির আয়োজন করা হয়।
এ সময় সমবেত প্রার্থনা, বিশ্বকল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, পুরুষোত্তম প্রণাম ও অঞ্জলি নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা এবং মাতৃবন্দনার মধ্য দিয়ে সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শ্রীশ্রীঠাকুরের পুণ্য জন্মস্থান প্রদক্ষিণ ও প্রণাম নিবেদন করেন ভক্তরা।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্রে নাম-ধ্যান ও ইষ্টপ্রসঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে বাসযোগে পাবনা শহরে নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে আয়োজিত হয় কিশোর মেলা।
দুপুরে আনন্দবাজারে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় মাতৃসম্মেলন। সম্মেলনে ‘সংসারই সাধনা—ক্ষেত্র পরিবার, কর্মজীবন ও সমাজে ধর্মের বাস্তব প্রয়োগ’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় সমবেত প্রার্থনা। প্রার্থনান্তে ধর্মসভায় ‘শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্য বাণীর আলোকে ধর্মের স্বরূপ ও বাস্তব রূপায়নের উপায়’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে রাতে ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ মহোৎসবের সমাপনী আয়োজন শেষ হয়।
মহোৎসবকে ঘিরে হিমাইতপুরধামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নাম-সংকীর্তন, প্রার্থনা, আলোচনা ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবস্থল পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
Leave a Reply